বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২০, ১২:২৯ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদঃ-
তুলাসার ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার ও আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে -ইকবাল হোসেন অপু এমপি বন্যায় প্লাবিত নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চিকিৎসা সেবা ব্যহত ভিডিও কনফারেন্সে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় করোনা আর বন্যা একসাথে মোকাবেলা করতে সরকার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে -উপমন্ত্রী শামীম ভেদরগঞ্জে প্রধান শিক্ষিকার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডার এন্ড কেক জোনের শুভ উদ্ধোধন বন্যার পানিতে ডুবে গেছে শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরিঘাট ডামুড্যায় সাংসদ নাহিম রাজ্জাকের চেক হস্থান্তর শরীয়তপুরে ক্রেতাশূণ্য কোরবানির পশুর হাট, দুশ্চিন্তায় খামারিরা
শরীয়তপুরে ক্রেতাশূণ্য কোরবানির পশুর হাট, দুশ্চিন্তায় খামারিরা

শরীয়তপুরে ক্রেতাশূণ্য কোরবানির পশুর হাট, দুশ্চিন্তায় খামারিরা

মেহেদী হাসান ॥ শরীয়তপুর জেলায় করোনা, বন্যাসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও হাটবাজারগুলোতে কোরবানির পশুরহাটে প্রচুর গরু উঠলেও ক্রেতাশূন্য থাকায় বিপাকে শরীয়তপুর জেলার খামারিরা। আগে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গরু ব্যবসায়ীরা গরু কিনে নিয়ে যেত। কিন্তু এবার বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা এখনও আসেনি। ফলে হাটবাজারগুলোতে ক্রেতা নেই বললেই চলে। অন্যান্য বছর বাজারগুলোতে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ক্রেতারা গরু কিনতেন। ক্রেতা না থাকায় এবার করুণ পরিস্থিতির কথা বলছেন বিক্রেতারা। ঈদের হাটে গরু বিক্রির আশায় বসে থাকা খামারি ও গরু ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ভালো দাম পাওয়ার আশায় খামারিরা গরু-ছাগল পরিচর্যা করেন। এ বছর ক্রেতা কম থাকায় ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। কম দামে গরু বিক্রি করলে আসল পুঁজিও উঠবে না খামারিদের। জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় ২২টা গরু ছাগলে হাট বসেছে। জেলায় ৭হাজার ৮শ’ জন খামারির তালিকাভুক্ত পশুর সংখ্যা প্রায় ৪০হাজার। জেলায় ঈদে পশুর চাহিদা আছে ৩৩হাজার। এর মধ্যে ২৩হাজার গরু, ১০হাজার ছাগল-ভেড়া। শরীয়তপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী গোসাইরহাট, সখিপুর পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, গরু আমদানির তুলনায় ক্রেতা কম। গতবছর যে গরুর দাম ৮০-৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল এবার সেরকম গরু ৫০-৭০ হাজার টাকা বলছেন ক্রেতারা। হাটে সর্বোচ্চ ৫লাখ টাকা মূল্যের ষাঁড় উঠেছে। তবে ক্রেতারা দাম বলেছে ২লক্ষ বা ২লক্ষ ৫০হাজার।
এদিকে পশুরহাটে অধিকাংশ মানুষেরই মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। নেই জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবস্থা। শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার কাশেম সরদার ও জামাল ফকির বলেন, ওষুধ খাইয়ে নয়, প্রাকৃতিক উপায়ে খড়-ঘাস, খৈল, ভূষি ভাতের মাড় খাইয়ে গরুগুলোকে বিক্রি উপযোগী করা হয়েছে। অন্যদিকে গরুর খাবারের দাম বেশি, বন্যার কারণে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট। তার ওপর হাটবাজারে গরুর ব্যবসায়ীরা না আসায় গরুর দাম কমেছে। এ কারণে আমরা গরু বিক্রি করতে পারিনি। ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও গ্রামের গরুর খামারি দেলোয়ার ফকির জানায়, বন্যার কারণে এমনিতেই গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গরু পরিচর্যায় অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। বাজারে যে দাম বলছে তাতে গরু বিক্রি করলে আসল তো দুরের কথা খরচের টাকাও উঠবে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের খামার বন্ধ হয়ে যাবে। সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের হাজী আব্দুর বর মিয়া হাটে গরু কিনতে এসে জানায়, করোনা এবং বন্যার কারণে ঈদে পশুর হাটে ক্রেতা আনেক কম। করোনার কারণে অনলাইন পশুর হাট বসায় ঘরে বসে ঈদের পশুর ক্রয় করতে পারছে। ঈদ ঘনিয়ে আসলে বাজার জমে উঠতে পারে। হাটে গরু কিনতে আসা দেলোয়ার হোসেন বাছার বলেন, কভিড-১৯ এর কারণে এখনও গরুর হাট জমে উঠেনি। ক্রেতাদের সমাগমও কম। ঈদ ঘনিয়ে আসলে বাজার জমে উঠবে। জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুবোধ কুমার দাশ বলেন, আসন্ন কোরবানির জন্য জেলায় ৩৩হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। এখানে চাহিদার কোন ঘাটতি হবে না। করোনার কারণে এবার কোরবানির পশু বিক্রির বিষয়টি মানুষের ক্রয় ক্ষমতার ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক
error: কপি করা দন্ডনীয় অপরাধ,যে কোনো প্রয়োজনে কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।