সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদঃ-
গোসাইরহাটে বড় কাচনা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার নাটোরের বড়াইগ্রামে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার কুচাইপট্টিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ব্যক্তি উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা ইকবাল হোসেন অপু এমপি’র নেতৃত্বে ২১আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণ চন্দ্রপুরে জাতির পিতার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা তুলাসার ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার ও আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে -ইকবাল হোসেন অপু এমপি বন্যায় প্লাবিত নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চিকিৎসা সেবা ব্যহত ভিডিও কনফারেন্সে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় করোনা আর বন্যা একসাথে মোকাবেলা করতে সরকার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে -উপমন্ত্রী শামীম
মানবিক পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান

মানবিক পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান

ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহীন ॥ মহামারি করোনার পর বন্যা দুর্গতদের মাঝে নানা সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে শরীয়তপুরবাসীর ভূয়সী প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এস. এম আশরাফুজ্জামান। তিনি ইতোমধ্যে শরীয়তপুর সদরসহ নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার বিভিণœ ইউনিয়নে বন্যা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন এবং বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। জেলার আইনশৃঙ্খলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপশি যে কোন দুর্যোগে আর্ত-মানবতার সেবার মাধ্যমে শরীয়তপুরবাসীর কাছে মানবিক পুলিশ সুপার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন এস.এম আশরাফুজ্জামান। প্রতিদিনই জেলার কোন না কোন এলাকায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছেন তিনি। শরীয়তপুর সদর উপজেলার কোটাপাড়া মুন্সিরহাট নদীর পাড়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেদে পল্লীর ৪৬ টি বেদে পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন শরীয়তপুর পুলিশ এস.এম. আশরাফুজ্জামান। রবিবার সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান বেদে পল্লীতে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি মহোদয়ের নির্দেশক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের অর্থায়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান বলেন, “মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পুলিশ সব সময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে আসছে। জনগণের সকল ধরনের বিপর্যয়ে নিরলস ভাবে কাজ করছে পুলিশ। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলাসহ দেশের ক্রান্তিকালে সব সময় কাজ করছে পুলিশ। বাংলাদেশ পুলিশের মাননীয় আইজিপি মহোদয়ের নির্দেশক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের অর্থায়নে বাংলাদেশ পুলিশ বন্যা দুর্গতদের মাঝেও সাহায্য সহায়তা প্রদান করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা আজ পালং থানাধীন কোটাপাড়া মুন্সিরহাট নদীর পাড়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেদে পল্লীর ৪৬টি বেদে পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করি। সমাজে যত নিম্ন শ্রেণির আয়ের মানুষ আছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো এই বেদে শ্রেণির লোকেরা, বন্যার কারণে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাই আমরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করলাম এবং অসহায় দারিদ্র মানুষের প্রতি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আমরা জনগণের আস্থার পুলিশ হতে চাই, জনগণের আস্থা অর্জন করতে চাই। আমরা বাংলাদেশ পুলিশ সব সময় জনগণের পাশে আছি ও থাকবো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পালং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ আসলাম উদ্দিনসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ। এর পূর্বে জেলার জাজিরা থানাধীন পাইনপাড়া পূর্ব নাওডোবা এবং নড়িয়া থানাধীন মোক্তারের চরের বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন পুলিশ সুপার এস.এম. আশরাফুজ্জামান।
এদিকে শরীয়তপুরে করোনার মহামারি যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে ক্ষেত্রে অভিনব নানা কৌশলী পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভূয়সী প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এস.এম আশরাফুজ্জামান। পুলিশ সুপার হিসেবে শরীয়তপুরে তার কর্মস্থলে যোগদান করার পর থেকেই জেলার আইনশৃঙ্খলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি নানা সেবামূলক কর্মকান্ড শুরু করেন তিনি। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস বিস্তারের শুরু থেকে শরীয়তপুর জেলা পুলিশ সুপার এস.এম আশরাফুজ্জামানের সু-নির্দেশনায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রথম থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রমে অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলসভাবে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে শরীয়তপুর জেলা পুলিশ। জনগণকে সচেতনতার পাশাপাশি, এই মহামারীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাদ্য সামগ্রী অসহায় মানুষদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন তাঁরা। নড়িয়াসহ জেলার বিভিণœ এলাকার লোক ইতালী, ফ্রান্স, স্পেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট থেকে নিজ এলাকায় ফেরত আসায় করোনা ভাইরাস বিস্তারে শরীয়তপুর একটি হটস্পট হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সুপার তাঁর কর্মদক্ষতা দিয়ে নানা অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করে করোনার সংক্রমণ থেকে জেলাবাসীকে মুক্ত রাখতে তার অবদান অতুলনীয় ও প্রশংসনীয়। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, শক্ত হাতে সন্ত্রাস দমনসহ নানা র্কমদক্ষতামূলক কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামানের দূরদর্শিতার। জনগণকে সচেতনতার পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে স্থানীয়সহ দেশবাসীর অকুণ্ঠ প্রশংসা কুঁড়াচ্ছেন পুলিশ সুপার। সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও পুলিশের সেবা জনগণের দারগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে জেলায় বিট পুলিশিং চালুসহ নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন পুলিশ জনগণের প্রকৃত বন্ধু। যা আগে কখনো জেলাবাসী দেখেনি বলে স্থানীয়দের অভিমত। ইতোমধ্যে পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান শরীয়তপুরবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন একজন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে। শুধু তাই নয়, পুলিশ সুপার হিসেবে শরীয়তপুর আসার পর থেকেই জেলা পুলিশকে ঢেলে সাজিয়ে পুলিশিং সেবা জনগণের দারগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। শরীয়তপুরবাসী নতুন রূপে দেখছে জেলা পুলিশকে, যা আগে কখনো দেখেনি। শরীয়তপুর জেলা পুলিশ করোনা ভাইরাসের সম্মুখ যুদ্ধে পুলিশ সুপার এস.এম আশরাফুজ্জামানের সুদিকনির্দেশনায় শরীয়তপুরবাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ। করোনা পরিস্থিতিতে নিজেদের পরিবার পরিজনের কথা না ভেবে, জীবনের তোয়াক্কা না করে জনগণকে নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন শরীয়তপুরের পুলিশ। ডামুড্যায় এক করোনা রোগীর মৃত্যু হলে তার দাফন-কাফনে আপন আত্মীয়-স্বজন যেখানে পালিয়ে গেছে, সেখানে পুলিশ নিজেরা তার দাফন সম্পন্ন করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শরীয়তপুরবাসীর নিকট এক বাক্যে এ যেন মানবিক পুলিশ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক
error: কপি করা দন্ডনীয় অপরাধ,যে কোনো প্রয়োজনে কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।