সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদঃ-
গোসাইরহাটে বড় কাচনা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার নাটোরের বড়াইগ্রামে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার কুচাইপট্টিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ব্যক্তি উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা ইকবাল হোসেন অপু এমপি’র নেতৃত্বে ২১আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণ চন্দ্রপুরে জাতির পিতার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা তুলাসার ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার ও আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে -ইকবাল হোসেন অপু এমপি বন্যায় প্লাবিত নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চিকিৎসা সেবা ব্যহত ভিডিও কনফারেন্সে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় করোনা আর বন্যা একসাথে মোকাবেলা করতে সরকার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে -উপমন্ত্রী শামীম
বন্যায় ভাসছে শরীয়তপুর, ভাঙ্গছে পদ্মা

বন্যায় ভাসছে শরীয়তপুর, ভাঙ্গছে পদ্মা

মো. বেলাল হোসাইন ॥ শরীয়তপুরে বন্যার সাথে পদ্মার ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে আড়াইশ পরিবার। নড়িয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদ সীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে শরীয়তপুরে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বন্যা পরিস্থিতি। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে কাঁচা-পাকা অধিকাংশ প্রামীণ সড়ক। নড়িয়া-জাজিরা সড়ক তলিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। শরীয়তপুর-মাওয়া সড়কের প্রায় বিশটি পয়েন্ট পানিতে তলিয়ে গেছে। সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এ সড়কে। এতে ঢাকা হতে আগত লোকজন জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। যাত্রী সাধারণ ডুবে যাওয়া রাস্তার বিভিন্ন স্থানগুলো দেশীয় নৌকায় পারাপার হচ্ছে। এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি ফারুক আহাম্মদ তালুকদার বলেন, বন্যার পানিতে শরীয়তপুর-মাওয়া সড়ক পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় রাস্তার ক্ষতি এবং যে কোন দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য বুধবার সন্ধ্যা থেকে এ সড়কে সকল ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জেলার জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ ও সদর এই চার উপজেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৪ লাখের বেশি পরিবার। এছাড়া বন্যায় দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র্র সংকট। ভেঙ্গে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বানভাসী মানুষ।
বন্যা দুর্গতদের সহায়তায় এ পযর্ন্ত আড়াইশ’ মেট্রিকটন চাল ও পনেরশ’ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এগুলো বিতরণ চলমান আছে। গো-খাদ্যের জন্য চাহিদাপত্র দিয়েছে জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর। এগুলো বরাদ্ধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলায় ২৯৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও খাবার পানি বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নড়িয়া পৌরসভাসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিই বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে প্রায় সব এলাকায়। এ উপজেলায় পানিবন্দী হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।
এদিকে বন্যার সাথে পাল্লা দিয়ে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে চরআত্রা ইউনিয়নে ৪০টি পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। নড়িয়া-জাজিরা সড়ক তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের সহায়তায় ৬০ মেট্রিকটন চাল ও ৫শ’ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এগুলো বিতরণ চলমান রয়েছে। গো-খাদ্যের জন্য বরাদ্ধ প্রক্রিয়া চলমান আছে। এখানে চল্লিশটির মত আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে আশ্রয় কেন্দ্রে এখনও কেউ আসেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এ উপজেলায় পানিবন্দী হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ। বড়কান্দি, পূর্ব নাওডোবা ও কুন্ডেরচর ইউনিয়ে দুইশ’ পরিবার পদ্মার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। বন্যা দূর্গতদের জন্য ২৬০ মেট্রিকটন চাল ও পাঁচশ’ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। এগুলো বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। গো-খাদ্যের জন্য বরাদ্ধ প্রক্রিয়া চলমান আছে। এখানে পঁয়ত্রিশটি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও খাবার পানি বিশুদ্ধ করবে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এখানেও আশ্রয় কেন্দ্রে কেউ আসেনি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আল নাসিফ জানান, ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়া, কাঁচিকাটা ও চরভাগা ইউনিয়নের সব কয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও ছয়গাঁও ইউনিয়নের সিংগাচূড়া, নাজিমপুর, কাজলকোট, ছত্রমুড়িয়া, রাণীসার, পাপরাইল ও মহিসার গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। চরভাগা, উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়ের বিভিণœ স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। ইতোমধ্যে উত্তর তারাবুনিয়া চেয়ারম্যান বাজারের ৩০টি দোকানঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুর রহমান শেখ জানান, বন্যা দুর্গত জন্য ৭০ মে.টন চাল ও পাঁচশ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এগুলো বিতরণ চলছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস. এম আহসান হাবীব জানান, শনিবার (২৫ জুলাই) নড়িয়া পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। বন্যা দুর্গতদের জন্য এ পযর্ন্ত আড়াইশ’ মেট্রিকটন চাল ও দেড় হাজার শুকনো খাবার বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এগুলো দুর্গতদের মাঝে বিতরণ চলমান রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক
error: কপি করা দন্ডনীয় অপরাধ,যে কোনো প্রয়োজনে কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।