বৃহস্পতিবার, ২০ Jun ২০১৯, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

ভূয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় পাঠিয়ে নিরীহ লোকজনকে হয়রানি, মূলহোতা গ্রেপ্তার

ভূয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় পাঠিয়ে নিরীহ লোকজনকে হয়রানি, মূলহোতা গ্রেপ্তার

SHARIATPUR PICজাজিরা প্রতিনিধি ॥ ভূয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় পাঠিয়ে সাধারণ লোকজনকে হয়রানি করার মূলহোতা মাসুদ রানা ওরফে আব্দুল জলিল মাদবরকে বুধবার সকালে পালং মডেল থানা পুলিশ তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল জলিল শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পশ্চিম ছাব্বিশপাড়া গ্রামের ডাঃ হাবিবুর রহমান মাদবরের ছেলে। সে দীর্ঘদিন যাবত জেলার আদালতের বিচারকদের এবং পুলিশ কোর্টের ভূয়া সিল তৈরী করে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন লোকের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখিয়ে তা থানায় পাঠিয়ে নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করে আসছে। এ ব্যাপারে পালং মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পালং মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন যাবত ওয়ারেন্ট জালিয়াতির চক্রের নায়ক মাসুদ রানা ওরফে আব্দুল জলিল মাদবর টাকার বিনিময়ে পুলিশ কোর্ট থেকে কারো সহায়তায় ভূয়া ওয়ারেন্ট তৈরী করে এলাকার নিরীহ গরীব লোকদেরকে গ্রেপ্তার করিয়ে হয়রানি করছে। এ চক্রটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জেলার কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেটদের ও পুলিশ কোর্টের সিল তৈরী করে বিভিন্ন লোকের নামে ভূয়া ও জালিয়াতি ওয়ারেন্ট দিয়ে হয়রানি করে আসছে। সম্প্রতি জাজিরা উপজেলার ছাব্বিশপাড়া গ্রামের আঃ রাজ্জাকের নামে দিনাজপুর কোর্টের সিআর মামলা নং ২৬৬/১৭, ধারা ৪৬৭/৪৬৮/১০৯ মামলার বরাতে ভূয়া ওয়ারেন্ট তৈরী করে শরীয়তপুর পুলিশ সুপারের বরাবর পাঠায়। উক্ত ওয়ারেন্ট পুলিশ সুপারের মাধ্যমে শরীয়তপুর পুলিশ কোর্ট হয়ে জাজিরা থানায় চলে যায়। এ ওয়ারেন্টের আসামী আঃ রাজ্জাক শরীয়তপুর শহরে বসবাস করার কারণে পালং মডেল থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কোর্টে সোপর্দ করে। আদালতের বিচারক আসামীকে জামিন না মনজুর  করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। পরে তাকে পুলিশ দিনাজপুর জেল হাজতে প্রেরণ করে। আসামীর আত্মীয়-স্বজনেরা দিনাজপুরে মামলার সূত্র অনুযায়ী নকল তুলতে গিয়ে জানতে পারে উল্লেখিত মামলার কোন অস্তিত্ব নেই। দীর্ঘ ১ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পায় আসামী আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়াও রাঙ্গামাটি কোর্টের সিআর মামলা নং ১৫৫/১৭, ধারা ৪৬৭/৪৬৮/৪২০/১০৯ ও সিআর মামলা নং ১২০/১৭, ধারা ৪২০/৪০৬/৪৬৭/৪৬৮/১০৯ নামে সেখান থেকে আরো দুটি ভূয়া মামলার ওয়ারেন্ট আসে শরীয়তপুরে। এ সকল ওয়ারেন্টে উল্লেখিত আসামীরা বেশীর ভাগই জাজিরা উপজেলার ছাব্বিশপাড়া গ্রামের অধিবাসি এবং ভূয়া ওয়ারেন্ট তৈরির মূলহোতা মাসুদ রানা ওরফে আব্দুল জলিল মাদবরের প্রতিবেশী। এসব ভূয়া ওয়ারেন্টের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছেন উক্ত গ্রামের আঃ রাজ্জাক মাদবর, রেজাউল করিম, আবুল বাশার মাদবর, মোঃ ইব্রাহিম, মোঃ খোকন, রিজিয়া বেগমসহ অনেকে। খোঁজখবর নিয়ে পুলিশ জানতে পারে এ সংক্রান্ত মামলার কোনই অস্তিত্ব নেই। এরপর পুলিশ অভিযানে বের হয়। পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মাসুদ রানা ওরফে আব্দুল জলিল মাদবর ভূয়া ওয়ারেন্ট দিয়ে অনেক লোককে হয়রানি করেছে। অনেক লোক জেল খেটে টাকা পয়সা নষ্ট করেছে। এক ওয়ারেন্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে গ্রেপ্তার করার পর অনেক ঘটনা বের হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক
error: কপি করা দন্ডনীয় অপরাধ,যে কোনো প্রয়োজনে কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।