বৃহস্পতিবার, ২০ Jun ২০১৯, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

নড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের উপর সন্ত্রাসী হামলা, গাড়ি ও অফিস ভাংচুর, আহত-৭

নড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের উপর সন্ত্রাসী হামলা, গাড়ি ও অফিস ভাংচুর, আহত-৭

Shariatpur Naria clash, car ransacked Pic(04-03-18)নড়িয়া প্রতিনিধি ॥ রবিবার শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা একেএম ইসমাইল হকের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। হামলাকারীরা একেএম ইসমাইল হকের ব্যবহৃত নড়িয়া উপজেলা পরিষদের সরকারি গাড়ি ও উপজেলা পরিষদের অফিস ভাংচুর করেছে। এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আহত হয়েছে ৭ জন। একেএম ইসমাইল হক সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হকের ছোট ভাই। রাজনৈতিক কোন্দলের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোজেশ্বরের নিজ বাড়ি থেকে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার পথে মাজেদা হাসপাতালের সামনে তার উপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। হামলার ঘটনার পর নড়িয়ায় আওয়ামীলীগের বিবদমান দু’টি দল জড়ো হতে শুরু করলে পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন হামলা ঘটনার সাথে সাথে নড়িয়া উপজেলায় ছুটে যান এবং নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করেন। ফলে পুলিশী নিরাপত্তার বেষ্টনীতে  চলে আসে পুরো নড়িয়া উপজেলা।
নড়িয়া থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নড়িয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামীলীগের একটি পক্ষের সাথে চেয়ারম্যান ইসমাইল হকের বিরোধ শুরু হয়। এ সময় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর মামলা হামলা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে ইসমাইল হকের বিরুদ্ধে। রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইসমাইল হক তার ভোজেশ্বরের বাড়ি থেকে নড়িয়া উপজেলা পরিষদে যায়। এ সময় শরীয়তপুর-নড়িয়া সড়কের নড়িয়া থানার সন্নিকটে মাজেদা হাসপাতালের সামনে গাছের গুঁড়ি ফেলে তার গাড়ি অবরুদ্ধ করে হামলাকারীরা। সেখানে গাড়ি ভাংচুর করা হয়। এ সময় গাড়ির চালক জাকির হোসেন হাওলাদার, রুবেল মুন্সি, জেলা পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান, আলম বয়াতি ও নড়িয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদল চৌকিদার আহত হন। হামলাকারীরা পরে উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যানের কার্যালয় ভাংচুর করে। তখন কাচের আঘাতে চেয়ারম্যান ইসমাইল হক আহত হন। দুপুর ১ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স পরিষদে এসে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য আহতদের চিকিৎসা দেন। বেলা দেড়টার দিকে পুলিশ পাহারায় চেয়ারম্যান ইসমাইল হক উপজেলা পরিষদ ত্যাগ করেন।
ইসমাইল হক রবিবার উপজেলা পরিষদে আসবেন এমন খবর পেয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। সকাল ৮টা থেকে নড়িয়ার-শরীয়তপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে ও নড়িয়া উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শরীয়তপুর সদর, জাজিরা, সখিপুর থানার ও ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের থানার পুলিশ নিয়ে নড়িয়া উপজেলা সদরে দায়িত্ব পালন করেন। এমন পরিস্থিতিতে বেলা ১১টা থেকে নড়িয়া উপজেলা পরিষদ ও আশপাশেন সকল সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়।
নড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাইল হক বলেন, সাংসদ শওকত আলীর ছেলে খালেদ শওকত আলী এ এলাকায় এমপি হতে চায়। এ কারণে আমাকে উপজেলায় আসতে দেয় না। গত এক মাসেরো বেশি সময় ধরে আমি উপজেলা পরিষদে আসতে পারি না। শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অবঃ) শওকত আলীর ছেলে খালেদ শওকত আলীর ক্যাডাররা এ হামলা চালিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হামলা চালায় তারা। আমার গাড়ির উপর বোমা নিক্ষেপ ও গুলি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কর্নেল (অবঃ) শওকত আলীর ছেলে ডাঃ খালেদ শওকত আলী মুঠোফোনে বলেন, আমি ঢাকাতে আছি, এখন রোগী দেখছি, উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম ইসমাইল হক জনগণের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হামলা, নির্যাতন ও নিপীড়ন করে এখন জনরোষে পড়েছে। তাইতো জনগণের হামলার শিকার হচ্ছে। নড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান খোকন বলেন, ইসমাইল হক তার ভাই সাবেক আইজিপি’র প্রভাব দেখিয়ে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা কর্মীকে মারধর, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। ক্ষুদ্ধ সেই নেতা কর্মীরা হামলা চালাতে পারে।
নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের উপর হামলাকারীদের পুলিশ খুঁজছে। কারা তাকে হামলা করেছে তাদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এ বিষয়ে এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক
error: কপি করা দন্ডনীয় অপরাধ,যে কোনো প্রয়োজনে কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।