বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

নড়িয়ায় ৩ লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ২ মৃতদেহ উদ্ধার, অন্য ২ লঞ্চের কোন সন্ধান মিলেনি

নড়িয়ায় ৩ লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ২ মৃতদেহ উদ্ধার, অন্য ২ লঞ্চের কোন সন্ধান মিলেনি

Shariatpur pic--01 (2)টাইমস রিপোর্ট ॥ শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ৩টি লঞ্চ ডুবির ঘটনায় বুধবার সন্ধা পযর্ন্ত এক মহিলা ও এক পুরুষের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এমভি মৌচাকের সন্ধান পেলেও তা ঘটনাস্থল থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে কাঁচিকাটার সন্নিকটে পদ্মার গভীরে ৪০/৪৫ ফুট পানির নীচে থাকায় উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। ডুবে যাওয়া অপর ২ লঞ্চ এমভি নড়িয়া-২ ও মহানগরীর গত ৩ দিনেও কোন সন্ধান মিলেনি। এদিকে উদ্ধার কাজের ধীর গতির জন্য অসন্তুষ্ট প্রকাশ করেছে নিখোঁজদের স্বজনরা। তবে উদ্ধারকারী দল বলছে, যথাযথভাবে তারা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পদ্মার প্রবল স্রোত ব্যহত হচ্ছে উদ্ধার কাজ। ফরিদপুর অঞ্চলের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক এবিএম মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা যৌথভাবে খুলনা থেকে আসা নৌবাহিনীর ডুবুরীদল, ফায়ার সাভির্সের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিআইডব্লিউটিএ এর লোকজন সম্মিলিতভাবে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছি। এ পযর্ন্ত ২ টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। পারভীন নামে এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করে তার পরিচয় সনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছি। অপর এক পুরুষের(৪৫) লাশের পরিচয় এখনও সনাক্ত করা যায়নি। তার মাথায় কিছুটা টাক রয়েছে। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধার কাজ ব্যহত হচ্ছে। তবে যতক্ষণ পযর্ন্ত সম্পূর্ণ উদ্ধার কাজ শেষ না হবে ততোদিন পযর্ন্ত উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি। এদিকে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর পয়েন্ট এলাকার পদ্মা নদী থেকে প্রসূতি পারভীন বেগমের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। বুধবার দুপুরে পদ্মা নদীতে স্থানীয়রা একটি মৃতদেহ ভাসতে দেখে উদ্ধারকারী দলকে খবর দিলে তারা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া নারীর মৃতদেহটি স্থানীয় ও স্বজনরা পারভীন বেগমের মৃতদেহ বলে সনাক্ত করেন। এরপর জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে মৃতদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর বিকাল সাড়ে ৪ টায় পদ্মা নদী থেকে এক পুরুষের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারীদল। তবে তার পরিচয় এখনও সনাক্ত করা যায়নি। এদিকে খুলনা থেকে আসা নৌবাহিনীর ডুবুরীদল, ফায়ার সাভির্সের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিআইডব্লিউটিএ এর লোকজন সম্মিলিতভাবে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন। ডুবে থাকা লঞ্চ এমভি মৌচাকের সন্ধান পেলেও ৪০/৪৫ ফুট পানির নীচে থাকায় তা আপাতত উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এটা চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে বলে জানান উদ্ধারকারীরা। অন্য ২ টি লঞ্চ এমভি নড়িয়া-২ ও মহানগরীর সন্ধান ও উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে পদ্মায় তীব্র স্রোত থাকার কারণে উদ্ধার কাজ ব্যহত হচ্ছে বলে জানান উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তারা। এদিকে নিখোঁজদের লাশের অপেক্ষায় নড়িয়ার সুরেশ্বর পদ্মা পাড়ে স্বজনদের এখনও ভিড় জমে আছে। লাশের অপেক্ষায় আহাজারি করছে তারা। নিখোঁজদের ছবি বুকে ধারণ করে আহাজারি করছে স্বজনরা। লঞ্চ ডুবির খবর পেয়ে সোমবার সকাল থেকেই তারা লাশের অপেক্ষায় অবস্থান করছে সুরেশ্বর পদ্মা পাড়ে। এদিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চ ও নিখোঁজদের উদ্ধার কাজ ধীর গতিতে চলছে বলে নিখোঁজদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। লঞ্চে এসে নিখোঁজ হওয়া যাত্রী ভোজেশ্বর এলাকার ব্যবসায়ী রিপন দাসের ছবি বুকে নিয়ে পদ্মা পাড়ে এসে তার লাশ খুজে বেড়াচ্ছেন তার ভাই দিলীপ দাস। দিলীপ দাস অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন কোন কাজ করছে না, আমরা নিজেরাই ডুবুরী দল ভাড়া করে এনে লাশ খুঁজে বের করব। ডুবে যাওয়া লঞ্চের স্টাফ নিখোঁজ নড়িয়া উপজেলার হালইসার গ্রামের মানিক মাদবরের ছবি নিয়ে লাশের অপেক্ষায় পদ্মা পাড়ে ৩ দিন ধরে আহাজারি করছেন তার স্ত্রী ছালমা বেগম। তিনি বলেন, আমি আমার স্বামীর লাশ নিয়ে বাড়িতে যাবো। জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হোসাইন খান বলছেন, জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে নদীতে তীব্র স্রোত ও নদী ভাংগনের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে দুটি লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আশা করি শীঘ্রই একটা সফলতা আসবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক
error: কপি করা দন্ডনীয় অপরাধ,যে কোনো প্রয়োজনে কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।