বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১১:২২ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর পদ্মা সেতুর নদীশাসন কাজের উদ্বোধনে আনন্দের জোয়ার জাজিরাসহ দক্ষিণ বঙ্গে

প্রধানমন্ত্রীর পদ্মা সেতুর নদীশাসন কাজের উদ্বোধনে আনন্দের জোয়ার জাজিরাসহ দক্ষিণ বঙ্গে

Shariatpur PM Pic -1 (12-12-15),............টাইমস রিপোর্ট ॥ পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদী শাসনের কজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবায় এ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। পরে তিনি সূধী সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেই। ২০০১ সালে ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করি। পরবর্তিতে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয় তারা মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে যাতে সেতু নির্মাণ করা না যায় সে উদ্যোগ নেয়। আমরা আবার ক্ষমতায় এসে সেতু নির্মাণের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের সাথে চুক্তি করি। তারা এগিয়ে আসে। হঠাৎ কোন কারণ ছাড়া তারা এখানে দুর্নিতীর একটা অভিযোগ আনেন। আমি তাদের জিজ্ঞাসা করি দূর্তিনীতি কোথায় হয়েছে, এটার কাগজ দিতে হবে। প্রমাণ দিতে হবে। তারা কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। তারা টাকাই ছাড় দেয়নি, তাহলে দূর্নিতীটা হল কোথায়। আজ পর্যন্ত তারা প্রমাণ করতে পারেনাই কোথায় দূর্নিতী হয়েছে। এটা নিয়ে কানাডায় মামলা হয়েছে। কানাডার আদালত বিশ্ব ব্যাংককে নিদের্শ দিয়েছে কি কি দূর্নীতি হয়েছে তা জানাতে। তারা এখনও পর্যন্ত কিছুই জানাতে পারেনি। জানাবারও কিছু ছিল না। এখানে ঘটনা অন্য ছিল। কোন এক স্বনাম ধন্য বিশ্বখ্যাত ব্যাক্তিত্ত্ব, তিনি একটি ব্যাংকের এমডির পদে আইন ভঙ্গ করে ১১ বছর ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন এ পদ তাকে ছেরে দিতে বলেন তখন তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় হেরে তাকে এ পদ ছেড়ে দিতে হয। আপনারা দেখেছেন উইকিলিকস প্রকাশ করেছে তিনি আমেরিকার সরকারের অনেক উর্ধ্বতনদের কাছে অনেক ই-মেইল পাঠিয়েছেন। সেই ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে নানা ধরণের আবেদন ছিল। তেমন এক মূহুর্তে বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট তার শেষ কর্ম দিবসে পদ্মা সেতুর টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেন। আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিলাম। আমি ঘোষনা দিলাম নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করব। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া পেয়ে ছিলাম, অনেক সাধারণ মানুষ অর্থ দিতে প্রস্তুত। অনেকে চেকও পাঠিয়েছে। সেটা আমি নেইনি। বাংলাদেশের মানুষের এইযে সাহস, সহযোগিতা, সমর্থন, এটাই আমাকে শক্তি যুগিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সেতু নির্মাণ কাজে সকলের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, পদ্মা নদীর এপাড় ওপাড় দুই পাড়ের মানুষ সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ছাড়া যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা দক্ষিণাঞ্চলকে অবহেলার চোখে দেখেছেন। এ সেতু নির্মাণের ফলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তন আসবে। বিশ্বব্যাপি যোগাযোগের যে নেটওর্য়াক তৈরী হচ্ছে তার সাথে বাংলাদেশ সংযুক্ত হতে পারবে এ সেতুর মাধ্যমে। এ সেতু নির্মানের অর্থ আমরা নিজেরাই দিচ্ছি। আমাদের রির্জাব ২৭ বিলিয়নের উপরে। সেখান থেকে দুই চার বিলিয়ন খরচ করা বাংলাদেশের জন্য কোন কষ্টকর নয়। আমাদের লক্ষ বাংলাদেশ সাবলম্ভি হবে। কারো কাছ থেকে আমাদের ভিক্ষা নিতে হবে না। পদ্মার দুই পাড়ে নগরায়ন হবে। ব্যাবসা বানিজ্যেও সম্প্রসারণ করা হবে। এ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিতা মাতা ভাইদের হারিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সেবা করার জন্য এসেছি। এখানে এসে নিজের ভাগ্য গড়তে আসিনি। আমার পরিবারের সদস্যরাও তাদের ভাগ্য গড়ার চেষ্টা করছেনা।
সুধী সমাবেশের আয়োজন করেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু কর্তৃপক্ষ। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হক।

এদিকে শরীয়তপুর, মাদারীপুর জেলাসহ দক্ষিণ বাংলার কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন ছিল প্রমত্তা পদ্মা নদীর উপর জাজিরা পয়েন্টে নির্মিত হবে পদ্মা সেতু। শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাজিরা উপজেলার নাওডোবায় পদ্মা পড়ে নদীশাসন কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে পদ্মা পাড়ের মানুষের চোখে মুখে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদীশাসন কাজের উদ্বোধন শেষে সকাল ১০ টায় নাওডোবায় সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার নির্ধারিত কর্মসূচী ছিল কিন্তু সকাল ছিল ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা। সূর্যের মুখ দেখা যায়নি দুপুরের আগে। কিন্তু এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে আটকে রাখতে পারেনি ঘন কুয়াশার আচ্ছাদন। হাজার হাজার নারী-পুরুষ ঘনকুয়াশার চাদর ভেদ করে দুর্গম বালুময় পথ পেরিয়ে চর্তুদিক থেকে ঢোল-ঢাক্কা বাঁজিয়ে ¯্রােতের বেগে আসতে থাকে। তাদের লক্ষ্যস্থল শেখ হাসিনার নদী শাসন কার্যক্রমের উদ্বোধনস্থল। সুধী সমাবেশ স্থলের বাইরেও ছিল হাজার হাজার মানুষের ঢল। বিজয়ের মাসে তারা যেন আরেকটি বিজয় দেখতে চায় পদ্মা সেতুর মুল কাজের শুরুর মধ্য দিয়ে। তাদের মুখে ছিল স্বপ্ন পুরনের বিজয়ের হাসি। তাদের প্রত্যাশা পদ্মা সেতু নির্মানের মধ্য দিয়ে শুধু মাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থারই উন্নয়নই হবে না, পদ্মা পাড়ের মানুষের অর্থনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধিত হবে। পদ্মা সেতু নির্মিত হলে শরীয়তপুর থেকে ঢাকা যাতায়াতের দুরত্ব ৪ ঘন্টা থেকে কমে মাত্র দেড় ঘন্টা হবে। পদ্মা পাড়ে গড়ে উঠবে হংকংয়ের ন্যায় শিল্প নগরী। এখানে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে তারা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। বেড়ে যাবে উন্নয়ন বঞ্চিত অবহেলিত পদ্মা পাড়ের মানুষের সহায় সম্পদের মূল্য ও জীবন যাপনের মান। পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া সায়েদ মুন্সীর স্ত্রী মঞ্জিলা বেগম, ফজলুল ঢালী, ফিত্তি বেগমসহ অনেকেই বলেন, যদিও পদ্মা সেতুর জন্য আমাদের বাব-দাদার ভিটে মাটি ছাড়তে হয়েছে তবুও আজ পদ্মা সেতু পেয়ে আমরা আনন্দিত ও খুশী।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক
error: কপি করা দন্ডনীয় অপরাধ,যে কোনো প্রয়োজনে কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।