বৃহস্পতিবার, ২০ Jun ২০১৯, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন

মাছ শিকারে লোকজপ্রযুক্তি ভেসাল

মাছ শিকারে লোকজপ্রযুক্তি ভেসাল

DSC07189টাইমস ডেস্ক ॥ মাছে ভাতে বাঙালী। আর মাছ জলচর প্রাণী। পুকুর, জলাশয়, খাল, বিল, নদী আর গভীর সমুদ্রের জল থেকে মাছ শিকার করতে হয়। বর্তমান বিশ্বে প্রতিটি স্তরে বিজ্ঞানের প্রযুক্তি লক্ষ্য করা গেলেও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা শরীয়তপুরে মাছ শিকারের (মাছ ধরা) জন্য সেই আদি লোকজপ্রযুক্তি এখনও ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও দু/একটি ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। লোকপ্রযুক্তির সাহায্যে মাছ ধরার নানাবিদ সহজ উপায় আছে।
ভেসাল ঃ  ভেসাল গ্রাম বাংলার মাছ ধরার একটি অন্যতম বৃহৎ ফাঁদ। ত্রিভুজাকৃতির ভেসাল লোকপ্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়। যে কোন অক্ষরজ্ঞান শুন্য লোকও এই ভেসাল তৈরি করে বিল, খাল, জলাশয় বা নদী থেকে মাছ ধরতে পারেন। নিজস্ব প্রযুক্তিতে সুতা দিয়ে জাল বুনে বাশেঁর সাহায্যে ভেসাল তৈরি করা হয়। অনেকটা সমদ্বিবাহু ত্রিভুজাকৃতির এ ভেসালের বাহুর দৈর্ঘ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুট লম্বা ও সামনের দিক পরিমান মত লম্বা হয়। এ ভেসাল তৈরির জন্য বিশেষ কোন প্রশিক্ষিত কারিগরের প্রয়োজন হয় না। হাট-বাজার থেকে সুতা কিনে জাল বুনে তৈরি করা হয় ভেসাল। ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছত্রমুড়িয়া গ্রামের আবুল কালাম জানান, একটি ভেসালের জাল বুনতে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগে আর খাল, বিল বা জলাশয়ে বাশেঁর খুঁটি পুতে একটি ভেসাল তৈরি করতে ২ থেকে তিন দিন সময় লাগে। ভেসালের সাথেই মাঁচানের উপর নির্মাণ করা হয় ছোট টং ঘর যেখানে মাছ শিকারকারী রাত যাপন করতে পারেন। ভেসালের সাথে মাছ রাখার খাছি (আঞ্চলিক শব্দ) বা ডোল রাখা হয় যা জাল দিয়ে মোড়ানো থাকে। বর্ষাকালে শরীয়তপুরের প্রতিটি গ্রামেই মাছ ধরার ভেসাল কম বেশী দেখতে পাওয়া যায়। মাছ ধরার ফাঁদ হিসাবে ভেসাল পানির নিচে রাখা হয় এবং ১৫/২০ মিনিট পর পর উপরের দিকে বিশেষ কৌশলে টেনে তোলা হয়। ফলে মাছ ভেসালের ফাঁদে আটকা পড়ে যায়। ভেসাল ছাড়াও মাছ শিকারের লোকপ্রযুক্তির অন্যান্য হাতিয়ার বা ফাঁদগুলো হলো চাঁই, খাদুন, চালুন, পাড়াঁন, ঝাঁকি জাল, কোঁচ, হুঁনকোঁচ, টেটা, বড়শী (আঞ্চলিক শব্দ) ইত্যাদি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক
error: কপি করা দন্ডনীয় অপরাধ,যে কোনো প্রয়োজনে কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।