শনিবার, ২০ Jul ২০১৯, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদঃ-
শরীয়তপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর মাছ শিকারীর গলিত লাশ উদ্ধার শরীয়তপুরে ৮দিন জেলখেটে ধর্ষক জামিনে মুক্ত, আতঙ্কে ভিকটিমের পরিবার, সুশীল সমাজে ক্ষোভ শরীয়তপুরে কলেজছাত্রী গণধর্ষণের অভিযোগে ৪ পরিবহন শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা, আটক-১ কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা, জাজিরা পৌর মেয়রপুত্র জেলহাজতে পাটুনীগাঁওয়ে কাঠমিস্ত্রীকে হাতুড়িপেটা শরীয়তপুরে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা কালকিনিতে মাদক মামলার পলাতক আসামী র‌্যাবের হাতে আটক শরীয়তপুরের কোয়ারপুরে দু’গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ৮ ডামুড্যায় অগ্নিকান্ডে মুদি দোকানীর মৃত্যু শরীয়তপুরে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স
শরীয়তপুরে ভেজাল খাদ্যে সয়লাভ ॥ সার্টিফিকেট বিক্রি আর মাসিক মাসোহারা আদায়ই জেলা স্যানিটেশন ইন্সপেক্টরের মূখ্য কাজ

শরীয়তপুরে ভেজাল খাদ্যে সয়লাভ ॥ সার্টিফিকেট বিক্রি আর মাসিক মাসোহারা আদায়ই জেলা স্যানিটেশন ইন্সপেক্টরের মূখ্য কাজ

Samai picশরীয়তপুর টাইমস ডটকম ডেস্ক ॥ শরীয়তপুর শহরসহ ৬ টি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ভেজাল খাদ্যে সয়লাভ হয়ে গেছে। সেই সাথে বিএসটিআইর অনুমোদন ছাড়াই বিস্কুটের বেকারী ও সেমাই কারখানা গড়ে উঠেছে যত্রতত্র। ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা, গোসাইরহাট, জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার ও সখিপুর থানার হাট-বাজারসহ বাসা-বাড়িতে বিএসটিআইর অনুমোদন ব্যতিত বিস্কুটের যেসব বেকারী কারখানা গড়ে উঠেছে তাদের অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকরা ময়লাযুক্ত পোশাক পড়ে গ্লাবস ছাড়াই হাতে-পায়ে ময়দা ছানিয়ে বিস্কুট, পাউরুটি, চানাচুরসহ নানা প্রকার খাদ্য দ্রব্য তৈরি করা হচ্ছে। বছরের পর বছর এসব অস্বাস্থ্যকর খাদ্র দ্রব্য উৎপাদন করা হলেও দেখার যেন কেউ নেই। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শরীয়তপুর জেলা হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই গত প্রায় ২৫ বছর ধরে জেলা স্যানিটেশন ইন্সপেক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন পরিমল চন্দ্র মন্ডল। সেই সাথে মাঝে মাঝে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্যানিটেশন ইন্সপেক্টর হিসাবেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। গত ২৫ বছরে পরিমল চন্দ্র মন্ডলের জন্য বেতন হিসাবে লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারের গচ্ছা গেলেও শরীয়তপুরবাসীর কোন উপকারে আসেনি। উল্টো স্যানিটেশন সার্টিফিকেট বিক্রি ও মাসিক মাসোহারা তুলে জেলার বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীন ভেজাল খাদ্যের কারখানা গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীদের। চোখে পড়ার মতো কোন ভেজাল বিরোধী অভিযান হয়না শরীয়তপুরে। তবে মাঝে মধ্যে দু/একটি ভেজাল বিরোধী অভিযান হলেও যেসব খাদ্য ব্যবসায়ীরা পরিমল চন্দ্র মন্ডলকে মাসোহারা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন, ভেজাল বিরোধী অভিযানের খড়গ নেমে আসে তাদের উপরই। রমজান মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভেজাল খাদ্য বিরোধী অভিযান হলেও শরীয়তপুরের সংখ্যা শুন্য প্রায়। সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকরা নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বরে মধু লাচ্ছা সেমাই নামে অনুমোদনহীন একটি সেমাই কারখানার সন্ধান জানালে মোবাইল কোর্টে মাধ্যমে সিলগালা করে দেয় জেলা প্রশাসন। মজার তথ্য হলো, গত কয়েক বছর যাবত ঐ কারখানার মালিক জেলা স্যানিটেশন ইন্সপেক্টর পরিমল চন্দ্র মন্ডলকে মাসিক মাসোহারা দিয়েই অনুমোদনহীন কারখানাটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। ভেদরগঞ্জ বাজারের কনফেকশনারী দোকানদার রিপন রাঢ়ী জানান, জেলা স্যানিটেশন ইন্সপেক্টর পরিমল চন্দ্রকে মাসিক মাসোহারা দিলেই দোকানে অনুমোদনহীন পানীয় দ্রব্যের ব্যবসা করা যায়। তিনি একা একা এসে বাজারে ঘুরে ঘুরে কিছু খাদ্যের দোকানদারদের কাছ থেকে শুধু মাসোহারা তোলেন। এতে দোকানদাররা ভেজাল খাদ্য বিক্রিতে উৎসাহিত হয়ে উঠে। ভুক্তভোগীরা জানান, বিভিন্ন ব্যবসার জন্য জেলা স্যানিটেশন ইন্সপেক্টরের কাছে থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হয়। আর এই সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে গেলেই জেলা স্যানিটেশন ইন্সপেক্টর পরিমল চন্দ্র মন্ডলকে মোটা অংকের ঘুষ দিতে হয় অন্যথায় মাসের পর মাস সার্টিফিকেটের পিছনে ঘুরতে হয়। এদিকে দীর্ঘদিন শরীয়তপুরে অবস্থানের সুবাদে পরিমল চন্দ্র মন্ডল সরকারি চাকুরির পাশাপাশি বিভিন্ন ঠিকাদারী ব্যবসার সাথেও জড়িত হয়ে পড়েছেন বলে শুনা যাচ্ছে। এসব বিষয় সম্পর্কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে, জেলা স্যানিটেশন ইন্সপেক্টর পরিমল চন্দ্র মন্ডল বলেন আমরা মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্ট দিয়ে ভেজাল খাদ্যের কারখানায় জরিমানা করি। এছাড়াও মাসোহারা আদায়ের কথা তিনি অস্বীকার করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক
error: কপি করা দন্ডনীয় অপরাধ,যে কোনো প্রয়োজনে কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।